27 C
Dhaka,BD
May 28, 2023
Uttorbongo
অর্থনীতি বাংলাদেশ

খাদ্যের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকা যাবে না: কৃষিমন্ত্রী

খাদ্যের জন্য কোনোক্রমেই বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকলে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। এ মুহূর্তে দেশে সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ। অন্যদিকে, কমছে কৃষিজমি। এ অবস্থায় এ কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে কৃষিকে বিজ্ঞানভিত্তিক করতে হবে, যান্ত্রিক করতে হবে, আধুনিক করতে হবে। উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তিকে দ্রুত মাঠে নিয়ে যেতে হবে। তাহলেই খাদ্যনিরাপত্তা টেকসই করা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজশাহী শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রাজশাহী, রংপুর বিভাগসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে ‘তেল ফসল ও ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক কর্মশালায় এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।

কৃষি কর্মকর্তাদের দ্রুত খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, খাদ্যের জন্য বিদেশের ওপর কোনোক্রমেই নির্ভরশীল থাকলে হবে না। বিশ্ব খুবই নির্দয় ও নিষ্ঠুর। নিজ দেশের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থে তাদের মধ্যে কোনো মানবতাবোধ, গণতন্ত্র ও নীতি-আদর্শ কাজ করে না। রাশিয়ার- ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে শস্য রপ্তানির একটি চুক্তি হয়েছে। কিন্তু নানা অজুহাতে সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এরকম অস্বাভাবিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে না পারলে, টাকা থাকলেও খাদ্য পাওয়া যাবে না।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দ্রুত চালের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ব্রি ২৮সহ পুরনো জাতের ধানের পরিবর্তে নতুন উদ্ভাবিত বেশি উৎপাদনশীল জাত ব্রিধান ৮৯, ৯২ ও ১০০সহ নতুন জাতগুলো কৃষকের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিন ও জনপ্রিয় করুন। এ জাতগুলোর ফলন বিঘাতে ৩০ মণের বেশি হয়। এগুলো চাষ করলে চালের উৎপাদন ৩০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হবে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশে ডলারের, তেলের ও সারের সংকট নেই। কিন্তু তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবীসহ যারা চায় সরকারের তাড়াতাড়ি পতন হোক— তারাই এ সংকটের কথা বলে বেড়াচ্ছে। তারাই চায় দেশে খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় হোক। তারা স্বপ্ন দেখছে, এসব সংকট হলে আন্দোলন করে ক্ষমতায় আসবে বা সরকারের পতন হলে অগণতান্ত্রিক অনির্বাচিত সরকারের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী হবে। আমি মনে করি, তারা গণতন্ত্রের শত্রু, দেশের শত্রু।

কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, ব্রির মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম, বারির মহাপরিচালক দেবাশীষ সরকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কর্মশালায় বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে তেল ফসলের অন্তর্ভুক্তি ও উচ্চ উৎপাদনশীল ধানের জাত চাষের মাধ্যমে তেল ও ধানের উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা ও করণীয় বিষয়ে পাঁচটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এসময় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Related posts

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে স্বাগত জানালো বাংলাদেশ

Asha Mony

সিলেটে বন্যাদুর্গতদের মাঝে আইনজীবী সংগঠনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

Asha Mony

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শিগগির চীনে ফিরতে শুরু করবেন

Asha Mony