27 C
Dhaka,BD
January 31, 2023
Uttorbongo
অর্থনীতি বাংলাদেশ

ঈদের আগে গরম মসলা ঠান্ডা, ঝাল বেড়েছে শুকনো মরিচের

সাধারণত ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে গরম মসলার দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এবার ব্যতিক্রম। এবার ঈদ কেন্দ্রিক গরম মসলার দাম বাড়েনি, উল্টো এলাচের দাম কমেছে।

গরম মসলার দাম না বাড়লেও শুকনো মরিচের দাম বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে জিরার দাম। এছাড়াও তেজপাতা ও ধনের দামও কিছুটা বেড়েছে।

এবার ঈদ কেন্দ্রিক গরম মসলার দাম না বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বন্যার কারণে এবার বিক্রি অনেক কম হয়েছে। অপরদিকে গরম মসলা আমদানি হয়েছে বেশি। ফলে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় দাম বাড়েনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকারিতে মানভেদে এখন এলাচের কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। এক মাস আগে এলাচের কেজি ছিল এক হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা। এ হিসাবে কেজিতে এলাচের দাম কমেছে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

এলাচের দাম কমলেও স্থিতিশীল রয়েছে লবঙ্গ ও দারুচিনির দাম। পাইকারিতে লবঙ্গের কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০ থেকে এক হাজার ৬০ টাকা। এছাড়া দারুচিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩৯০ টাকা।

অপরদিকে ভারত থেকে আমদানি করা জিরার দাম কিছুটা বেড়ে এখন ৩৮৫ থেকে ৩৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে যা ছিল ৩৮০ থেকে ৩৮৫ টাকা। অর্থাৎ ভারত থেকে আমদানি করা জিরা পাইকারিতে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। তবে আফগানিস্তান থেকে আমদানি করা জিরা আগের মতো ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মসলার দামের বিষয়ে মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মো. রুবেল জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের আগে এবার ভারতীয় জিরা ছাড়া কোনো মসলার দাম বাড়েনি। বরং এলাচের দাম কমেছে। আর দারুচিনি ও লবঙ্গের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভারতীয় জিরার সরবরাহ কম থাকায় কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। কিছুদিন আগে আমরা ভারতীয় জিরার কেজি ৩৮০ টাকা বিক্রি করেছি, এখন ৩৮৫ টাকা বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের আগে গরম মসলার বাড়তি চাহিদা থাকে। এ জন্য একটু দাম বাড়ে। তবে এবার বিক্রি খুবই কম। গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে এবারই বিক্রি সব থেকে কম হয়েছে। আমাদের ধারণা দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার বিক্রি কম।

এদিকে খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দারুচিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৬০ টাকা। এলাচ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা। জিরার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। লবঙ্গের কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

মসলার দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. ইদ্রীস বলেন, কোরবানি ঈদ কেন্দ্রিক এবার গরম মসলার দাম বাড়েনি। এক-দুই মাস আগে লবঙ্গ, দিরুচিনি, এলাচ যে দামে বিক্রি হয়েছে, এখনো সেই দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে জিরার দাম একটু বেড়েছে।

এদিকে, গরম মসলার না বাড়লেও শুকনো মরিচের দাম বেড়ে গেছে। দেশি শুকনো মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ২২০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে। আর আমদানি করা শুকনো মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা।

শুকনো মরিচের দামের বিষয়ে হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. আফজাল বলেন, দশদিন ধরে পাইকারিতে শুকনো মরিচের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এরইমধ্যে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকার বেশি। তবে ঈদের আগে আর দাম বাড়বে না বলে মনে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. রাজু বলেন, বাজারে আমদানি করা শুকনো মরিচের সরবরাহ কম। দেশি শুকনো মরিচও কম আছে। এ কারণে দাম একটু বেড়েছে। তবে শুকনো মরিচের এই বাড়তি দাম খুব বেশি দিন থাকবে না।

এদিকে পেঁয়াজ, রসুন, আদার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। আমদানি করা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।

তবে কিছুটা বেড়েছে তেজপাতা ও ধনের দাম। তেজপাতার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে। আর ধনে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।

ঈদের আগে মসলার দামে অস্থিরতা দেখা না দেওয়ায় খুশি ক্রেতারা। রামপুরা বাজারে বিভিন্ন ধরনের মসলা কিনতে আসা আলেয়া বেগম বলেন, আমাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। কোরবানি না দিলেও ঈদের দিন ভালোই মাংস পাবো। অনেক দিন হয়ে গেছে গরুর মাংস খাওয়া হয়নি। আল্লাহ মেহেরবানি করলে ঈদের দিন পরিবারের সবাই মিলে তৃপ্তি করে গরুর মাংস খাবো। এ জন্য কিছু মসলা কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

মসলার দাম কেমন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি ২০ টাকা, ৫০ টাকা করে মসলা কিনেছি। আমাদের পক্ষে তো কেজি কেজি কেনা সম্ভব না। তাই শুনিনি। তবে ২০ টাকা, ৫০ টাকায় ভালোই মসলা দিয়েছে।

কারওয়ান বাজারে মসলা কিনতে আসা হাবিবুর রহমান বলেন, এবার মসলার দাম বাড়েনি। এক মাস আগে যে দামে কিনেছিলাম, সেই দামেই কিনতে পারছি। মসলার দাম বাড়েনি দেখে ভালোই লাগছে। কিন্তু বাজারে গরুর তো অনেক দাম চাচ্ছে। দুদিন বাজারে গিয়েছি, দাম শুনে চলে এসেছি। কোরবানির নিয়ত করেছি, ইনশাআল্লাহ কোরবানি দেবো। ঈদের আগের দিন গরু কিনবো।

Related posts

গণনায় ডিজিটাল পদ্ধতি, ১১ বছর পর জনশুমারি

admin

মুদ্রণ শিল্পনগরীতে সময় বাড়লো ৩ বছর, ব্যয় ১২৫ কোটি

Asha Mony

সারাবিশ্বের টালমাটাল অবস্থা আমাদের ওপর পড়েছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

Asha Mony