20 C
Dhaka,BD
January 27, 2023
Uttorbongo
রাজশাহী

নওগাঁয় দাফনের ৫৬ দিন পর কবর থেকে কিশোরের মরদেহ উত্তোলন

নওগাঁ সদর উপজেলায় দাফনের ৫৬ দিন পর কবর থেকে সিফাত হোসেন নামের (১৪) এক কিশোরের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়।

এ সময় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসাইন, নওগাঁ সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল গফুর এবং সিফাতের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সিফাত হোসেন উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে এবং কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩১ মে সকালে স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সিফাত হোসেনকে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র স্মরণ শাহরিয়ার, হৃতিক ও রিয়াদ হোসেন মারধর করেন। ঘটনাটি সিফাত তার পরিবারকে জানালে ওই দিনই সিফাতের বাবা মিজানুর রহমান প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিষয়টিতে না শুনে উল্টো সিফাতকে শাসন করতে বলেন।

এছাড়া প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শাহরিয়ারের বাবা সাজেদুর রহমান সিফাতকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুবল চন্দ্র ও নজরুল ইসলামও সিফাতকে নিয়ে হাসাহাসি করেন। ন্যায়বিচার না পাওয়ায় অভিমানে বাড়ি ফিরে ওই দিন রাতে কীটনাশক সেবন করে সিফাত। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১ জুন দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নওগাঁর আমলি আদালত-১ এ ৯ জুন মামলা নেওয়ার আর্জি দায়ের করেন সিফাতের বাবা মিজানুর রহমান। পরে আদালতের নির্দেশে আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তা করার অপরাধে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় এজহার দেন।

মামলার বাদী সিফাতের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলেকে আত্মহত্যার প্ররোচনা করা হয়েছে। যার কারণে অপমান সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে। মামলায় আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য ছেলের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। আমি জড়িতদের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সিফাতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

Related posts

আশ্রয়ণে ঠাঁই পাওয়া ৬০ পরিবারকে ঘর ছাড়তে হুমকি

Asha Mony

চিকিৎসক সংকটে ভেঙে পড়েছে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা

Asha Mony

চালুর পরদিনই বন্ধ কোরবানির পশুবাহী বিশেষ ট্রেন

Asha Mony