27 C
Dhaka,BD
February 6, 2023
Uttorbongo
দেশজুড়ে রংপুর লালমনিরহাট

ড্রাম দিয়ে ভাসমান সেতু তৈরি করলেন শিক্ষক

জনদুর্ভোগ লাঘবে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সালমারা সতী নদীর ওপর ভাসমান সেতু বানিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দফতর থেকে সালমারা সতী নদীর ওপর প্রায় ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের কাজ আগামী ২০ জুন শেষ হওয়ার শর্ত পূরণ তো দূরের কথা এখনো কাজ শুরুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাই জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এ কাজটি করেছেন শালমারা ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম আলী।

জানা যায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের  বালাপাড়া গ্রামের শালমারা সতীর ওপর নির্মিত একটি সেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ভেঙে গেলে ওই পথে চলাচলে দুর্ভোগে পড়ে এলাকার মানুষ। তবে শুকনো মৌসুমে কোনোরকমে যাতায়াত করলেও বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে যাওয়ায় ওই জনপদের ছয় গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।

জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দফতর থেকে টেন্ডারে প্রায় ৭১ লাখ টাকা ব্যায় বরাদ্দে ওই সেতুর নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয় গত ১৩ জানুয়ারি মেসার্স শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। চলতি জুন মাসের ২০ তারিখের মধ্যেই কাজ শেষ করার কথা থালেও এখনো কাজ শুরুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে অতিবর্ষণে পানি বেড়ে গেলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়ে উত্তর বালাপাড়া, গাবতলী, বোতলাসহ ৮ গ্রাম ও ৫ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণিপেশার কমপক্ষে ২৫ হাজার মানুষ।

দুর্ভোগ লাঘবে নিকটস্থ শালমারা  ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরও কয়েকজনের অর্থায়নে চলাচলের জন্য  প্লাস্টিকের ড্রাম, বাঁশ ও বাঁশের চাটাই ব্যাবহার করে ওই নদীর ওপর একটি  ভাসমান সেতু তৈরি করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

১০-১৫ কিলোমিটার ঘুরে কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছে করতে হতো প্রয়োজনীয় কাজ। ভাসমান সেতুটি তৈরি করায় মোটরসাইকেল রিকশা ও ভ্যানগাড়ি চলাচলের সুবিধা হলেও ভারী যানবাহন চলা নিয়ে ভোগান্তি কমেনি ভুক্তভোগীদের। ওই পথে চলাচলকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পথচারী ও ভুক্তভোগী মানুষের দাবি।

শালমারা ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম আলী সময় নিউজকে জানান, ওই সেতুটি দিয়ে তার বিদ্যালয়সহ আরও ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা যাতায়াত করেন। তিনি আরও বলেন, দ্রুতই স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

এদিকে ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট বরাদ্দে  চলতি (জুন) মাসের ২০ তারিখে শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দে ওই নদীর ওপর ১৫ মিটার পরিমাপের একটি সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয় জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দফতর থেকে। কাজ শেষের আর মাত্র ১২ কর্মদিবস বাকি থাকলেও কাজ শুরুই করেনি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় আদৌ কি এই স্বল্প সময়ে সেতুর কাজ শেষ করা সম্ভব নাকি এ অর্থ বছরের টাকা হওয়ায় ফিরত যাবে টাকা এমন প্রশ্ন করা হলে তা পাশ কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আহমেদ। তিনি বলেন, পানি কমে গেলে শুরু করা হবে সেতু নির্মাণের কাজ।

এলাকার ভুক্তভোগী সব শ্রেণিপেশার মানুষ আর দূরাগতদের দাবি স্থায়ী সমাধানের। কর্তৃপক্ষ দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমন প্রত্যাশা এই অঞ্চলের মানুষের।

Related posts

দিনাজপুরে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

Asha Mony

সড়কে যানজট, রংপুরে বাসের শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তি

Asha Mony

রংপুরে আবাসিক ২ ছাত্রকে বলাৎকার, শিক্ষক গ্রেফতার

Asha Mony