20 C
Dhaka,BD
February 9, 2023
Uttorbongo
ক্রিকেট খেলাধুলা

সব ফরম্যাটেই ব্যাটারদের আস্থা অনেক কমে গেছে: ফাহিম

২০১৮ সালে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল বাংলাদেশের। ২-১ ‘এ সিরিজ জিতেছিল সাকিবের দল। ৪ বছর পর এবার ২-০‘তে হার। খেলার যা অবস্থা ছিল, তাতে বৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচ ধুয়েমুছে না গেলে হয়তো ৩-০‘তে ধবলধোলাই হওয়া লাগতো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলকে।

কোনও ম্যাচ জেতা বহুদুরে, এতটুকু লড়াইও করতে পারেনি টাইগাররা। কেন এ বিপর্যয়? তবে কী পিছিয়ে গেল টাইগাররা? নাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব বেশি এগিয়েছে? প্রশ্ন অনেকের।

জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দেশ বরেণ্য প্রশিক্ষক, বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক নাজমুল আবেদিন ফাহিম। বিকেএসপির প্রধান টেকনিক্যাল উপদেষ্টা আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় জাগো নিউজের সাথে একান্ত আলাপে টিম বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি পারফরমেন্স ও পরিণতি নিয়ে অনেক খোলামেলা কথা বলেছেন।

অনেক কথার ভিড়ে ফাহিমের সোজা সাপটা উচ্চারণ, ‘হ্যাঁ, আমরা পিছিয়েছি। এই ৪ বছরে আমরা অবশ্যই পিছিয়ে পড়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়েছে। দল হিসেবে খেলেছে।’

তবে ফাহিমের ধারণা শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই নয়, বাংলাদেশ সব ফরম্যাটেই পিছিয়ে গেছে। পিছিয়ে যাচ্ছে। তার অনুভব, ক্রিকেটারদের আস্থাহীনতায় পেয়ে বসেছে। বিশেষ করে ব্যাটারদের মধ্যে আস্থার অভাব সুস্পষ্ট। এছাড়া লক্ষ্য পরিকল্পনা নির্ধারনেও আছে সমস্যা এবং সর্বোপরি অ্যাপ্রোচটাও যথাযথ হচ্ছে না। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পারফরমেন্স খারাপ হচ্ছে।

ফাহিমের কথা, ‘আমি টেকনিক্যাল, স্কিল এসব দিকে যেতে চাই না। আমার মনে হয় আমাদের ছেলেদের ব্যাটিংয়ে আস্থা এবং বিশ্বাস দিনকে দিন কমছে। সব ফরম্যাটেই আমাদের ব্যাটারদের মাঝে একটা পরিষ্কার আস্থাহীনতা ফুটে উঠেছে। সেই আস্থাহীনতাটা দারুনভাবে ভোগাচ্ছে এবং এতে করে পারফরমেন্স হচ্ছে আরও খারাপ।’

‘আর একটা কথা, খারাপ পারফরমেন্সের যে বায়ো প্রোডাক্ট আছে সেগুলো আমাদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। দল হিসেবে অবনমন ঘটছে।’

এই আস্থাহীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য কি কি করনীয়? ফাহিমের পরামর্শ সবার আগে ক্রিকেটারদের রানক্ষুধা বাড়াতে হবে। আমার মনে হয় ক্রিকেটারদের রানক্ষুধা কমে গেছে। সেটা বাড়াতে হবে।’

এই কোচ ও অ্যানালিস্টের ধারনা ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা বেশি। সেখান থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়ে ফাহিম বলেন, ‘একেকজনের অবস্থা একেক রকম থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কেউ একটু ভাল খেলবে, কেউ খেলবে না- এগুলোও স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। কারো দলে জায়গা মজবুত। কারো মজবুত নয়। আবার কেউবা অনেক দিন পরে দলে ফিরবে।’

‘আমাদের দলে সেই তিন ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা নিজের মত করে ভাবে। ব্যক্তিগত চিন্তায় মশগুল থাকে। যাদের অবস্থান মজবুত না, তারা কিভাবে অবস্থান পাকা করা যায়, সে চিন্তায় খাকে। আর অনেকদিন পরে ফেরারা চায় কিছু রান করে দলে থেকে যেতে; কিন্তু তা করা যাবে না। তাতে করে দলের প্রয়োজন মিটবে না। ব্যক্তির চাহিদা বা ইচ্ছে পূরণ হবে। কিন্তু দল উপকৃত হবে না। এক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও বলে দিতে হবে, তোমার নিজের কথা না দলের কথা ভেবে টিম প্ল্যানে যা করার কথা বলা হয়েছে, তা করো। তারপরও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো দলগত প্রচেষ্টা। একটা কমবাইন্ড টিম এফোর্ট খুব জরুরি। সবাইকে একত্রিত করা খুব জরুরি।’

Related posts

নিজেদের দুরবস্থার জন্য পুতিনকেই দুষলেন বাইডেন

admin

সেঞ্চুরি হাঁকালেন তামিম, শূন্যতে আটকা মুমিনুল

admin

দশ বছর পর এক পেসার নিয়ে মাঠে বাংলাদেশ

Asha Mony