20 C
Dhaka,BD
January 27, 2023
Uttorbongo
অন্যান্য জীবন ধারা

পুরান ঢাকার বিখ্যাত সব খাবার হোটেল!

ঐতিহ্যবাহী সব খাবারের কথা মনে পড়লেই মাথায় চলে আসে পুরাণ ঢাকার নাম। সেখানকার খাবারের স্বাদে রয়েছে এক ভিন্ন আভিজাত্য। যা অন্য জায়গার খাবারের স্বাদের সঙ্গে সহজেই পার্থক্য টেনে দেয়।

এই এলাকার বাহারি খাবারের রয়েছে বাহারি নাম। এর স্বাদ নিতে নানা জায়গা থেকে ভোজনপ্রেমীরা ভিড় জমান পুরান ঢাকার খাবারের হোটেলগুলোতে।

খাবারের এই সুনাম অবশ্য এক দিনেই তৈরি হয়নি। দীর্ঘ ৪০০ বছরের অধিক সময় ধরে তৈরি হয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী আভিজাত্য।

পুরান ঢাকার খাবারের নামের তালিকায় রয়েছে ছোট -বড় সব ধরনেরই মুখরোচক খাবার। এসব খাবার আবার সব বয়সের মানুষের কাছেই বেশ পছন্দের।

আরও পড়ুন: ডায়াবেটিস রোগীদের শ্রেষ্ঠ পথ্য মেথি

মুখরোচক এসব খাবার অনায়াসেই জায়গা দখল করে নেয় সকালের নাস্তায়, দুপুরের লাঞ্চ , বিকালের নাস্তা অথবা রাতের ডিনারে।

এইসব বিখ্যাত আর মুখরোচক খাবারগুলো আপনি পেয়ে যাবেন বিখ্যাত সব হোটেলগুলোতে। পুরান ঢাকার বিখ্যাত হোটেলগুলোর নাম এক নজরে দেখে নিতে পারেন-

১. হোটেল আল-রাজ্জাক: কাচ্চি, গ্লাসি, মোরগ পোলাওয়ের জন্য বিখ্যাত।
২. লালবাগ রয়্যাল: এ হোটেলের কাচ্চি, জাফরান-বাদামের শরবত, চিকেন টিক্কা, লাবান, কাশ্মীরী নান সেরা খাবারগুলোর অন্যতম।
৩. নবাবপুর রোডে হোটেল স্টার: খাসির লেগ রোস্ট , চিংড়ি ,ফালুদার জন্য বেশ জনপ্রিয়।
৪. নবাবপুর আরজু হোটেল: এই হোটেলের মোরগ পোলাও আর কাচ্চির স্বাদের জুড়ি মেলা ভার।
৫. নারিন্দার ঝুনু বিরিয়ানি: পুরান ঢাকার  বিখ্যাত খাবার হোটেলের নাম। এই হোটেল মূলত বিরিয়ানির জন্যই সবার কাছে বেশ পরিচিত।
৬. নাজিরা বাজারের হাজীর বিরিয়ানি: এটিও পুরান ঢাকার  বিখ্যাত খাবার হোটেল। এই হোটেল শুধু বিরিয়ানির জন্যই বিখ্যাত ।

৭. নাজিমুদ্দিন রোডের হোটেল নিরব: এই হোটেল বিভিন্ন ধরনের ভর্তার জন্য বেশ জনপ্রিয়।
৮. হানিফের বিরিয়ানি: নাজিরা বাজারের হাজি বিরিয়ানি এর উল্টা দিকেই আপনি পেয়ে যাবেন এই হোটেল।
৯. বংশালের শমসের আলী হোটেল: ভূনা খিচুড়ি, কাটারী পোলাওয়ের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয় এই হোটেল।
১০. নাজিরা বাজার মোড়ে বিসমিল্লা হোটেল: বটি কাবাব আর গুরদারের জন্য এই হোটেল বেশ জনপ্রিয়।
১১.  নান্না বিরিয়ানি হোটেল: বেচারাম দেউরীতে অবস্থিত এই হোটেল মোরগ-পোলাওয়ের জন্য বিখ্যাত।
১২. ঠাঁটারীবাজার স্টার হোটেল:  এখানের কাচ্চি বিরিয়ানি, লেগ রোস্ট আর ফালুদা বেশ জনপ্রিয়।
১৩. ঠাঁটারী বাজারের গ্রিন সুইটস হোটেল: এই হোটেলের আমিত্তি, জিলাপি একবার খেলেও এর স্বাদ আপনি কখনও ভুলতে পারবেন না।

১৪. মাখন মিয়ার হোটেল: রায় সাহেব বাজারের গলিতে এই হোটেলটি রয়েছে। যেখানের পোলাও অন্য কোনো হোটেলের পোলাওয়ের চেয়ে স্বাদে আর গন্ধে অনেকটাই আলাদা।
১৫. রহিম মিয়ার হোটেল: সুত্রাপুর বাজারের এই হোটেলটি বিশেষভাবে পরিচিত খাসির বিরিয়ানির জন্য।
১৬.গেন্ডারিয়ার রহমানিয়ার কাবাব: বিভিন্ন স্বাদের কাবাবের জন্য এই হোটেলটি পুরান ঢাকায় বেশ জনপ্রিয়।
১৭. কলতাবাজারের নাসির হোটেল: এই হোটেলটি বিখ্যাত গরুর মাংস আর পরাটার জন্য ।
১৮. ভিক্টোরিয়া পার্কের সুলতান ভাইয়ের চা: বিভিন্ন ধরনের চা এই হোটেলে আপনি পেয়ে যাবেন।
১৯. দয়াগঞ্জের সিটি বিরিয়ানি ও কাচ্চি: মোগলাই খাবারের জন্য বেশ জনপ্রিয় এই হোটেলটি।

২০. গেন্ডারিয়ার বুদ্ধর বিরিয়ানি: পুরান ঢাকার এই বিরিয়ানির দোকান একনামে সবাই চিনে। এই দোকানের বিরিয়ানির অনন্য স্বাদই পরিচিতির মূল কারণ।
২১. ঐতিহ্যবাহী মানিক চানের হোটেল: এই হোটেলে পাওয়া প্রায় সব খাবারের মান ও স্বাদ হোটেলটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
২২. সোনামিয়া মিষ্টান্ন ভান্ডার: গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত এই দোকানটি দই আর বাহারি মিষ্টির জন্য বেশ জনপ্রিয়।
২৩. দিল্লির সুইটমিট: এখানকার সন্দেশ, পরোটা ও টকভাজি বেশ জনপ্রিয়। হোটেলটির খাবার খেতে হলে আপনাকে যেতে হবে টিপু সুলতান রোড।
২৪. নারিন্দার মোহন চাঁদ: লুচি,হালুয়া, সবজির লাবরা, কাঁচা ছানার জন্য এই দোকানটি বেশ জনপ্রিয়।

এছাড়াও আরও যেসব পুরাণ ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান রয়েছে তাহলো নারিন্দার সফর বিরিয়ানি, আরমানিটোলা তারা মসজিদের পাশে জুম্মন মামার চটপটি,সিদ্দিক বাজারের মাজাহার সুইটস,আবুল হাসনাত রোড এর কলকাতা কাচ্চি ঘর, রায় সাহেব বাজারের বিউটি লাচ্ছি, চকবাজারের নুরানী শরবত, গেন্ডারিয়ার সোনা মিয়ার দই, লালবাগ মোড় এর মীরা মিয়ার চিকেন ফ্রাই আর গরুর শিক, গেন্ডারিয়ার আল্লার দান বিরিয়ানি আর রহমান এর কাবাব, নাজিরা বাজারের ডালরুটি, রায়সাহেব বাজারের আল ইসলামের মোরগ পোলাও, চিকেন টিক্কা, বাংলাবাজারের বিখ্যাত কাফে কর্নারের কাকলেট ও চপ।

সকাল কিংবা বিকেলের নাশতার খাবারের জন্য যেতে পারেন বাংলাবাজারের বিখ্যাত চৌরঙ্গী হোটেলে, রায়সাহেব বাজারে কাফে ইউসুফের নান ও চিকেন টিক্কা, নবাব পুরের মরণ চাঁদ মিষ্টির দোকানের ভাজি-পরোটা, মিষ্টি ও টক দই, লক্ষীবাজার এর মাসহুর সুইটমিট এর লুচি, ভাজি আর ডাল, চানখারপুলের মামুন হোটেলে’র স্পেশাল কাচ্চি, হোসনী দালান রোডের পরটা আর কলিজা ভাজি খেতে।

Related posts

১৯০ কিমি পথ পাড়ি দিল যুবক ট্রেনের ইঞ্জিনের নিচে বসে !

admin

যে সব খাবারের পর ভুলেও দই খাবেন না

admin

খাবার বেশি খেয়েও মোটা হবেন না!

admin